স্টাফ রিপোর্টার :
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘ইরানের ইসলামি বিপ্লব: বর্তমান যুগে ইসলামের পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর ইসরাফিল আমিরি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহাখালী দারুল উলুম হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ এবং খুলনার ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীরমোহাম্মদী।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান আধুনিকতার অন্ধ অনুসরণের পথ পরিহার করে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরান কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং বৈশ্বিক পরিসরেও একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তারা আরও বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সামরিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় দেশটি আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে ইরান সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে সফল হয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে ইরানের অগ্রগতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ন্যানো প্রযুক্তি, রোবটিক্স, মহাকাশ গবেষণা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইরান উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে দেশটি কেবল নিজেদের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক মুসলিম সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বক্তাদের মতে, ইসলামি বিপ্লব কোনো সাধারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি মুসলিম বিশ্বে আত্মপরিচয়, স্বনির্ভরতা ও পুনর্জাগরণের এক শক্তিশালী প্রতীক।