নিজস্ব প্রতিবেদক :
জামালপুরের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের একটি অংশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খানকে ভবিষ্যতে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান বলে মত প্রকাশ করেছেন।
শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে বিবেচিত।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল রাজনীতি ও শ্রমিক আন্দোলনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংযম, সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ এবং কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপতির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
শ্রমিক আন্দোলন থেকে জাতীয় নেতৃত্বে
১৯৪৮ সালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল ইসলাম খান। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৭০ সালে পাকিস্তান মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিক অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০-এর দশকে শ্রমিক রাজনীতিতে দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে শ্রমিক রাজনীতিতে তার নেতৃত্ব সুদৃঢ় করেন, যা তাকে জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা
বর্তমানে নজরুল ইসলাম খান বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। দলীয় নীতি নির্ধারণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়নে তিনি প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক সংকটের সময় পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্যও তিনি দলের ভেতরে ও বাইরে সম্মানিত।
২০০৪ সালে তিনি কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
জামালপুর জেলার কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক মনে করেন, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নজরুল ইসলাম খানের অভিজ্ঞতা কার্যকর হতে পারে। একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যার প্রতি তার সংবেদনশীলতা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলেও তারা আশাবাদী।
তবে এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান কিংবা বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও মাঠপর্যায়ে এ ধরনের আলোচনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।