গাজীপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম পরিচিত ও পরীক্ষিত সংগঠক, বিপুল ভোটে নবনির্বাচিত গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ জনগণ।
দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ফজলুল হক মিলন নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন।
২০০১ সালে তিনি গাজীপুর-৩ (বর্তমানে গাজীপুর-৫, কালীগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে ও পরে দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সর্বশেষ গাজীপুর জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালীগঞ্জ, বাড়িয়া ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৫ আসন থেকে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেন।
উল্লেখ্য, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করে। বিএনপির চারজন সংসদ সদস্যের মধ্যে একমাত্র ফজলুল হক মিলনই দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার দিক বিবেচনায় তাকে মন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছেন নেতাকর্মীরা।
এলাকার সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, দীর্ঘদিন অবহেলিত গাজীপুর-৫ আসনকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক।
গাজীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সোলেমান সরকার বলেন, ফজলুল হক মিলন গাজীপুর বিএনপির একজন অভিভাবকতুল্য নেতা। তিনি বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি। শেখ হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সাহসী নেতৃত্ব তিনি বারবার দেখিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
পূবাইল থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার বলেন, গাজীপুর মহানগরের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্দান কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে ফজলুল হক মিলনের বিজয় আমাদের আস্থার প্রতিফলন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটাই দাবি, মিলন ভাইকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন শিকদার বকুল জানান, ছাত্র রাজনীতির পুরোধা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রী হিসেবে বরণ করতে গাজীপুর-৫ আসনের সর্বস্তরের মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, বিএনপি তার অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে।