স্টাফ রিপোর্টার :
শেরপুর সদর উপজেলার ১নং কামারের চর ইউনিয়নের ডুবার চর এলাকায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন ৫০ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল হামিদ।
ইউএনও বরাবর দাখিল করা লিখিত অভিযোগে আব্দুল হামিদ জানান, ডুবার চর দক্ষিণ এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ রহমত আলী, মোঃ ছামিদুল ইসলাম, মোঃ শাহিনুর ইসলাম মুক্তা ও মোঃ উজ্জ্বল মিয়া গত ০৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখ থেকে তার ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এতে বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, জমিটি তার দাদা আব্দুর রহমান মন্ডল সিএস সূত্রে মালিক ছিলেন। পরবর্তীতে আরএস রেকর্ড অনুযায়ী তার ফুফু ছফুরা খাতুন মালিকানা পান। ১৯৭৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ও তার ভাই-বোনেরা যৌথভাবে মোট ৫৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ১৯৮০ সালে বি.আর.এস রেকর্ড প্রস্তুতের সময় উক্ত জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০১২ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি), শেরপুর কার্যালয় থেকে তিনি ৫০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন। ঘটনার আগ পর্যন্ত তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন বলে দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমিতে তার আবাদকৃত মাছের প্রজেক্ট থেকে জোরপূর্বক মাছ উত্তোলনের চেষ্টা চলছে এবং তাকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহিনুর ইসলাম মুক্তা ও কামারের চর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম খলিলের ভাইয়েরা মিলে ওই প্রকল্পের মাছ উত্তোলন করে বেআইনিভাবে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেন। তিনবার স্ট্রোক করা একজন অসুস্থ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তিনি জানান, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হলেও নোটিশ প্রদান সত্ত্বেও বিবাদীরা হাজির না হওয়ায় কোনো সুরাহা হয়নি। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
জমির তফসিল অনুযায়ী, মৌজা কামারের চর, জে.এল নং–০৬, আরএস খতিয়ান নং–২২৫০, দাগ নং–৪৩০৪ এবং খারিজি খতিয়ান নং–২৫-৮২-০২, দাগ নং–৯১৫৪। জমির পরিমাণ ৫০ শতাংশ। চৌহদ্দি অনুযায়ী উত্তরে ও দক্ষিণে খাস জমি, পূর্বে রাস্তা এবং পশ্চিমে নতুন রাস্তা রয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল হামিদ ইউএনও’র কাছে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে জমি দখলমুক্ত করা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।