গাজীপুর প্রতিনিধি :
উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে গাজীপুর মহানগরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর থেকে মহানগরের বিভিন্ন এলাকা, সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামাঞ্চল ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। এতে সকালবেলা দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ভোরে কুয়াশা বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে কেটে যেতে পারে।
ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাস্তার পাশে খড়কুটো ও কাগজ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। সূর্যের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত অনেকেই ঘর থেকে বের হতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
গাছা এলাকার রিকশাচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “শীত অনেক বেশি, তবু পরিবার চালাতে বের হতেই হয়। কাজ না করলে খাবো কী।
ইজিবাইক চালক ইমরান জানান, ভোরে কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না, হেডলাইট জ্বালিয়ে খুব সতর্কভাবে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
রিকশাচালক জয়নাল বলেন, সকালে কাজে বের হতে দেরি হওয়ায় দৈনিক আয় পাঁচ থেকে সাতশ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
এদিকে কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, সকালে জমিতে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। ঠান্ডা পানিতে বেশিক্ষণ দাঁড়ানো যায় না, হাত-পা অবশ হয়ে আসে।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের সহকারী চিকিৎসক ডা. নাহিদা সুলতানা বলেন, শীতের এই তীব্রতায় শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শীতজনিত রোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সমাজের সামর্থ্যবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় খড়কুটো ও প্লাস্টিক পোড়ানো থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।